মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত মালামাল ক্যাম্পে নিয়ে আসার পথে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর অতর্কিত গুলি চালায় সশস্ত্র চোরাচালানকারীরা। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি পাল্টা জবাব দিলে চোরাকারবারীরা পাহাড়ি গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর তবলছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা সিংহপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযানটি পরিচালনা করে ২৩ বিজিবি যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভারত থেকে একটি বড় অস্ত্রের চালান সীমান্ত অতিক্রম করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল সিংহপাড়া গ্রামের সীমান্ত রেখায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। গভীর রাতে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা আতঙ্কিত হয়ে সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় এলজি, ১৪ রাউন্ড তাজা গুলি, ১,৬০০ ভারতীয় রুপি এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও মালামাল বিজিবি বিওপিতে নিয়ে যাওয়ার পথে ওঁৎ পেতে থাকা সশস্ত্র পাচারকারী চক্রটি টহল দলকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি বর্ষণ করে। বিজিবি সদস্যরাও তাৎক্ষণিক কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে কড়া জবাব দেয়। দু’পক্ষের গোলাগুলির একপর্যায়ে বিজিবির শক্ত অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে দুষ্কৃতকারীরা দুর্গম পাহাড়ের দিকে সটকে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
২৩ বিজিবি যামিনীপাড়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. খালিদ ইবনে হোসেন জানান, সীমান্ত এলাকা নিরাপদ রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তবর্তী যেসব সংবেদনশীল পথ দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সমরাস্ত্র কিংবা মাদকের চোরাচালান হতে পারে- সেই রুটগুলোকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা নস্যাৎ করতে এসব পয়েন্টে পর্যবেক্ষণ ও বিজিবির টহল বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের এই অপরাধবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’